প্রথম টেস্ট জয়ের ১৪ বছর, কতটা বদলেছে বাংলাদেশ?

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্রিকেট

প্রথম টেস্টে জয়ের ১৪ বছর পূর্ণ হলো! ২০০৫ সালের ১০ জানুয়ারি সাদা পোশাকে টাইগাররা লিখেছিল নতুন ইতিহাস। প্রথম টেস্ট জয়ের সেই স্মৃতি আজও উজ্জিবীত করে রেখেছে অগণিত টাইগার ভক্তদের।

৬ জানুয়ারি চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে খেলতে নামে বাংলাদেশ। টসে জিতে প্রথম ইনিংসে ৪৮৮ রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের ব্যাট থেকে আসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৯৪ রান। এছাড়া রাজিন সালেহ করেন ৮৬ রান।

জবাব ব্যাট করতে নামে টাইগার বোলারদের তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। মাত্র ৮৬ রানের ৫ উইকেট হারায়। কিন্তু টাটেন্ডা টাইবুর ৯২ আর এলটন চিগুম্বুরার ৭১ রানে ভর করে জিম্বাবুয়ে ৩১২ রান পর্যন্ত পৌঁছায়। বাংলাদেশের পক্ষে রফিক ৫টি আর মাশরাফি ৩টি উইকেট নেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামে। কিন্তু এবারও অধিনায়ক হাল ধরেন। হাবিবুল বাশারের ৫৫ রানের ইনিংসে ভর করে ২০৪/৯ রানে ইনিংস ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ।

৩৮১ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামা জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১৫৪ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। এনামুল হক জুনিয়র ৪৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে সফরকারীদের রুখে দেন। এই ইনিংসে ২টি করে উইকেট নেন তাপস বৈশ্য আর মাশরাফি বিন মর্তুজা।

ওই সিরিজেই দ্বিতীয় টেস্ট ড্র করে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় হাবিবুল বাশারের দল। প্রথম বারের মতো টেস্ট ও টেস্ট সিরিজ জেতে বাংলাদেশ।

১৪ বছর পর বাংলাদেশের ক্রিকেটের অনেক কিছুই বদলে গেছে। কিন্তু এখনও সেদিনের স্মৃতি জ্বলজ্বল করছে দেশের কোটি কোটি টাইগারপ্রেমীদের হৃদয়ে।

এক ঝলকে দেখে নেয়া যাক টেস্টে এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের অবস্থান ও অর্জন:

আইসিসি টেস্ট র‍্যাংক ৯ (পয়েন্ট ১৭২৭, রেটিং ৬৯)

ম্যাচ ১১২টি, জয় ১৩টি, পরাজয় ৮৩টি, ড্র ১৬টি, জয়ের হার ১১.৬০%

অভিষেক হয় ভারতের বিপক্ষে (১০-১৩ নভেম্বর, ২০০০)

প্রথম জয় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে (৬-১০ জানুয়ারি, ২০০৫)

প্রথম টেস্ট ড্র জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে (নভেম্বর ৮-১২, ২০০১)

বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট ও সিরিজ জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে (জুলাই ৯-১৩, ২০০৯)

সর্বোচ্চ স্কোর ৬৩৮ (১৯৬ ওভার) বনাম শ্রীলংকা (গল স্টেডিয়াম, শ্রীলংকা )

সর্বনিম্ন স্কোর ৪৩ (১৮.৪ ওভার) বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ (স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়াম, ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলেছেন

মুশফিকুর রহিম ৬৬টি, মোহাম্মদ্দ আশরাফুল ৬১টি, তামিম ইকবাল ৫৬টি, সাকিব আল হাসান ৫৫টি, হাবিবুল আশার ৫০টি।

টেস্ট অধিনায়কত্ব

মুশফিকুর রহিম (২০০১-১৭): ম্যাচ ৩৪, জয় ৭, পরাজয় ১৮

হাবিবুল বাশার (২০০৪-০৭): ম্যাচ ১৮, জয় ১, পরাজয় ১৩

সাকিব আল হাসান (২০০৯-১৮): ম্যাচ ১৩, জয় ৩, পরাজয় ১০

মোহাম্মদ আশরাফুল (২০০৭-০৯): ম্যাচ ১৩, জয় ০, পরাজয় ১২

খালেদ মাসুদ (২০০১-০৪): ম্যাচ ১২, জয় ০, পরাজয় ১২

ব্যক্তিগত রান

তামিম ইকবাল: ম্যাচ ৫৬, ইনিংস ১০৮, রান ৪,০৪৯, গড় ৩৭.৮৪, স্ট্রাইক রেট ৫৫.৩২, শতক ৮টি, অর্ধশতক ২৫টি

মুশফিকুর রহিম: ম্যাচ ৬৬, ইনিংস ১২৩, রান ৪০০৬, গড় ৩৫.১৪, স্ট্রাইক রেট ৪৫.৯০, শতক ৬টি, অর্ধশতক ১৯টি।

সাকিব আল হাসান: ম্যাচ ৫৫, ইনিংস ১০৩, রান ৩,৮০৭, গড় ৩৯.৬৫, স্ট্রাইক রেট ৬১.৯০, শতক ৫টি, অর্ধশতক ২৪টি।

হাবিবুল বাশার: ম্যাচ ৫০, ইনিংস ৯৯, রান ৩০২৬, গড় ৩০.৮৭, স্ট্রাইক রেট ৬০.২৮, শতক ৩টি, অর্ধশতক ২৪টি।

মোহাম্মদ আশরাফুল: ম্যাচ ৬১, ইনিংস ১১৯, রান ২৭৩৭, গড় ২৪.০০, স্ট্রাইক রেট ৪৬.০৭, শতক ৬টি, অর্ধশতক ৮টি।

ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান

মুশফিকুর রহিম ২১৯* (বনাম জিম্বাবুয়ে)

সাকিব আল হাসান ২১৭ (বনাম নিউজিল্যান্ড)

তামিম ইকবাল ২০৬ (বনাম পাকিস্তান)

মুশফিকুর রহিম ২০০ ( বনাম শ্রীলংকা)

সর্বাধিক শতক

মোমিনুল হক/ তামিম ইকবাল ৮টি

মুশফিকুর রহিম/ মোহাম্মদ আশরাফুল ৬টি

সাকিব আল হাসান ৫টি

সর্বাধিক অর্ধশতক

তামিম ইকবাল ২৫টি

হাবিবুল বাশার ও সাকিব আল হাসান ২৪টি

মুশফিকুর রহিম ১৯টি

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৫টি

সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ

সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম ৫ম উইকেট জুটিতে ৩৫৯ রান (বনাম নিউজিল্যান্ড)

তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস ১ম উইকেট জুটিতে ৩১২ রান (বনাম পাকিস্তান)

ব্যক্তিগত বোলিং রেকর্ড

সাকিব আল হাসান: ম্যাচ ৫৫, ইনিংস ৯৩, উইকেট ২০৫, ইকোনমি ৩.০১, বেস্ট ৩৬/৭

মোহাম্মদ রফিক: ম্যাচ ৩৩, ইনিংস ৪৮, উইকেট ১০০, ইকোনমি ২.৭৯, বেস্ট ৭৭/৬

তাইজুল ইসলাম: ম্যাচ ২৩, ইনিংস ৪২, উইকেট ৯৭, ইকোনমি ৩.১৬, বেস্ট ৩৯/৮

মেহেদী হাসান মিরাজ: ম্যাচ ১৮, ইনিংস ৩৩, উইকেট ৮৪, ইকোনমি ৩.২৫, বেস্ট ৫৮/৭

মাশরাফি মর্তুজা: ম্যাচ ৩৬, ইনিংস ৫১, উইকেট ৭৮, ইকোনমি ৩.২৪, বেস্ট ৬০/৪

ইনিংসসেরা বোলিং

তাইজুল ইসলাম ৩৯/৮ (১৬.৫ ওভার বনাম জিম্বাবুয়ে)

সাকিব আল হাসান ৩৬/৭ (২৫.৫ ওভার বনাম নিউজিল্যান্ড)

মেহেদী হাসান মিরাজ ৫৮/৭ (১৬ ওভার বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

এনামুল হক জুনিয়র ৯৫/৭ (৩৬ ওভার বনাম জিম্বাবুয়ে)

শাহদাত হোসেন ২৭/৬ (১৫.৩ ওভার বনাম সাউথ আফ্রিকা)

ম্যাচসেরা বোলিং

মেহেদী হাসান মিরাজ ১১৭/১২ (৩৬ ওভার বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ) ও ১৫৯/১২ (৪৯.৩ ওভারে বনাম ইংল্যান্ড)

এনামুল হক জুনিয়র ২০০/১২ (৭৩ ওভার বনাম জিম্বাবুয়ে)

তাইজুল ইসলাম ১৭০/১১ (৬৮.১ ওভার বনাম জিম্বাবুয়ে)

সাকিব আল হাসান ১২৪/১০ (৫৯ ওভার বনাম জিম্বাবুয়ে)

৫-উইকেট

সাকিব আল হাসান ১৮ বার

মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসালম ও মোহাম্মদ রফিক ৭ বার

শাহদাত হোসেন ৪ বার

১০-উইকেট

সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ ২ বার

এনামুল হক জুনিয়র ১ বার

তাইজুল ইসলাম ১ বার