ভারত পারলে বাংলাদেশ কেন না?

ক্রিকেট

ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডে যাবে বাংলাদেশ। তিন ওয়ানডে ও তিন টেস্টে স্বাগতিকদের মুখোমুখি হবে টাইগাররা। আসন্ন ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্ব হিসেবে এই সফরটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সফরটা কি শুধুই বিশ্বকাপ প্রস্তুতির?

এবারে একটা বড় স্বপ্ন নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিউইদের ঘরে তিন ফরম্যাটের ২১টি ম্যাচেই পরাজয়ের রেকর্ড। ২০০১ সালে থেকে ৭টি টেস্ট, ১০ টি ওয়ানডে ও ৪টি টি-২০ সবগুলোতেই হার।

এইবার অন্ততপক্ষে পছন্দের ফরম্যাট ওয়ানডেতে জয় পেতে হবে টাইগারদের। ২০১৮ সালের পারফরম্যান্সে ওয়ানডে দলগুলোর মধ্যে সেরা তিনে থেকে বছর শেষ করেছিল মাশরাফি বাহিনী। এই বছর নিউজিল্যান্ড সফর দিয়েই শুরু হবে সব হিসেব-নিকেষ; সঙ্গে আছে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ। একদিকে র‍্যাংকিং ধরে রাখা ও অন্যদিকে বিশ্বকাপের আগে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা দু’টোর জন্যই দরকার টেলর-গাপটিলদের বিপক্ষে জয়।

২০১৬-১৭ সালে নিউজিল্যান্ড সফরটা ছিল বাংলাদেশের জন্য সব থেকে লজ্জাজনক সিরিজ। তিন ফরম্যাটেই হোয়াইটওয়াস। ওই বারই প্রথম এতো বড় লজ্জা নিয়ে দেশে ফিরে আসে বাংলাদেশ। তবে এবার মোক্ষম সুযোগ এসেছে বাংলাদেশের জন্য।

অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের মাঠে জিততে পারে না এশিয়ার কোন দেশ এটা এখন আর সত্য নয়। মাত্র কয়েকদিন আগেই অজিদের ডেরায় তাদের ধরাশায়ী করেছে কোহলির ভারত। ৭১ বছরের লালিত স্বপ্ন পূরণ করেছে কোহলি। টেস্টে এক নম্বরে থাকা ভারত যদি পাঁচ নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করতে পারে তাহলে ওয়ানডের তিন নম্বরে থাকা বাংলাদেশ কেন নিউজিল্যান্ডকে পরাস্ত করতে পারবে না? ভারতের সব থেকে জনপ্রিয় অধিনায়ক কোহলি ইতিহাস গড়তে পারলে, টাইগারদের ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক কেন সেটা পারবেন না?

তবে এর পাশাপাশি ভিন্ন চিত্রও আছে। ভারত-অস্ট্রেলিয়ার সমসাময়িক শ্রীলংকার সঙ্গে আরেকটা সিরিজ চলছে নিউজিল্যান্ডে। প্রথম টেস্ট ড্র হওয়ায় ১-০ তে সিরিজ জেতে স্বাগতিকরা, কিন্তু তিন ওয়ানডেতে শ্রীলংকাকে এক রকম দুমড়ে মুচড়ে ফেলে সাউদি-ফার্গুসেনরা। রানের বোঝা আর দুর্ধর্ষ বোলিং লাইন আপ দুইদিক দিয়েই চেপে ধরে স্বাগতিকরা। সামনে একমাত্র টি-২০তেও কর্তৃত্ব ধরে রাখবে ব্ল্যাকক্যাপরা।

২০১৬-১৭ সালের নিউজিল্যান্ড সফরের সঙ্গে ছিলেন কোচ হাথুরুসিংহে। এবারও শ্রীলংকার সঙ্গে হাথুরুসিংহেই। দলটা ভিন্ন কিন্তু ফলাফল একই।

কিন্তু নতুন ব্রিটিশ কোচের ছত্রচ্ছায়ায় টাইগারদের ভালো কিছু অর্জন হবে। তাছাড়া ওয়ানডে ফরম্যাটে শ্রীলংকার থেকে অনেক এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। টপ অর্ডার আর অলরাউন্ড দুটোতেই বাংলাদেশ সমৃদ্ধ। আছে শক্ত মিডল অর্ডার। পেস অ্যাটাকে কিছুটা দুর্বল অবশ্য। তবে চলমান বিপিএল থেকে তরুণ পেসারদের এনে মাশরাফি-রুবেলদের সঙ্গে ভালো কম্বিনেশন তৈরি করা হতে পারে।

আরেকটা কারণে এই সিরিজে জয় পেতে হবে টাইগারদের। এটাই হতে পারে দেশের সর্বকালের সেরা, সফল ও জনপ্রিয় অধিনায়ক মাশরাফির নিউজিল্যান্ডের মাটিতে শেষ সিরিজ । তাই প্রিয় অধিনায়কের বিদায়টা স্মরণীয় করতে একটা চেষ্টা করতেই হেবে টাইগারদের।