রাজাকার ও তাদের আওলাদদের তালিকা হচ্ছে কী!

অপরাধ ও দুর্নীতি

চারিদিকে শুনশান নীরবতা। তারেক জিয়াকে নিয়ে নেই তেমন মাতামাতি আমাদের দেশের এক শ্রেণীর পত্রিকায়। সেই সব পত্রিকায় যারা শুধু শেখ হাসিনার দোষ চোখে দেখেন। এই চুপ থাকা মানে সরকারের পক্ষ হয়ে যাওয়া না, চুপ থাকা মানে প্রতিশোধের আকাংখ্যার জলাঞ্জলি দেওয়া বা ভুলে যাওয়া না। তারা তাদের ভাষায় ‘গোকুলে’ নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করছে, সময় সুযোগ বুঝে চরম আঘাত হানার, সব লণ্ডভণ্ড করে নিজের রাজ কায়েম করার। নিরবতাকে কখনো কখনো বড় ঝড় বা অঘটনের প্রস্তুতির পূর্বাভাষ মনে করা হয়। বিএনপি- জামাত চুপ মানেই তারা কিছু ভাবছে, কিছু পরিকল্পনা করছে এবং তা দীর্ঘ মেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে অনেকটা মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনায়। শুক্রবার তাঁরা ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের সাথে কথা বলেছেন, কিন্তু কী কথা তাঁর সাথে হয়েছে তা বলেন নি। এখানে একটা মজার ব্যাপার কী কী লক্ষ্য করে থাকবেন যে, তাঁদের দলে ছিলেন তাবিথ আওয়াল নামের এক নতুন প্রজন্মের রাজনিতিক।

১৯৭১ সালে পরাজিত হয়ে পাক হানাদারদের দোষররা বিদেশে পাড়ি জমায়, যাদের অধিকাংশই যায় বিলেত, আর মধ্যপ্রাচ্যে। সেখেনে গিয়ে জামায়াতের সহায়তায় চাকরী বিয়ে শাদী, ইত্যাদি করে সেখানেই স্থিতু হয়ে টাকা জমানো শুরু করে। তারা বিলেতের মাটিতে একেকটা মিনি পাকিস্তান বানিয়ে বাংলাদেশ তথা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে শুরু করে মিডিয়া যুদ্ধের প্রস্তুতি। দেশের মধ্যে যারা থেকে যেতে পারে তারা অন্য এলাকায় গিয়ে ব্যবসা শুরু করে, শুরু করে এনজিও, মানবাধিকার সংগঠনের নামে অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করা।

বিলেতি স্টাইলে শিক্ষা বিক্রি শুরু করে ধর্মের আড়ালে, প্রিন্টিং ব্যবসা, বিভিন্ন ধরণের প্রকাশনা, তার সাথে চলে কোচিং ব্যবসার নামে রাজাকারের আওলাদদের পুনর্বাসনের নানা প্রকল্প। তাঁরা জানে যে তৃতীয় বিশ্বের দেশে শক্তি দুই রকম এক- রাজনৈতিক শক্তি। দুই- অর্থনৈতিক শক্তি। রাজনৈতিক শক্তি দিয়ে অর্থনৈতিক শক্তি আর অর্থনৈতিক শক্তি দিয়ে রাজনৈতিক শক্তি অর্জন করা সম্ভব। ১৯৯০ সালের গন অভ্যুত্থানের পরে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক শক্তি খর্ব করা গেলেও অর্থনৈতিক শক্তি ছিল অটুট তাই তাঁরা ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সব্বাইকে অবাক করে দিয়ে ৩৫ টি আসনে জয়লাভ করে। অর্থনৈতিক শক্তি বা টাকা জাতীয় পার্টিকে এই বিজয়ে সহায়তা করেছে।

২০১৪ সালে অগ্নি সন্ত্রাসের কারণে জনবিচ্ছিন্ন হওয়া বিএনপি নমিনেশন বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থনৈতিক শক্তি অর্জন করে রাজনৈতিক শক্তি অর্জন করার স্বপ্ন দেখেছিল। তাদের বর্তমান নেতা তারেক জিয়া লন্ডনে বসে অর্থ দিয়ে শুধু দেশীয় আর আঞ্চলিক সন্ত্রাসী দাউদ ইব্রাহিমই নয় আইএস এর সাথেও চুক্তি করেছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিকে নিজের দখলে নেওয়ার। এই ষড়যন্ত্র ফাঁস হবার পরে বাংলাদেশর গোয়েন্দারা দৃঢ় পদক্ষেন নিলে তারেক জিয়ার সেই অশুভ পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

মিথ্যাচার করে তারাই যারা লাভবান হয়। দুর্নীতি আর অবৈধ টাকা আর ১৯৭১ সালে লুট করা টাকা আন্ডা বাচ্চা শত শত ইউটিউব চ্যানেল খুলেছে বিদেশে থাকা রাজাকারের আওলাদরা। সেখান থেকে সিটিজেন জার্নালিজমের নামে মিথ্যাচার ধর্ম নিরপেক্ষতাকে ধর্মহীনতার আখ্যা দিতে চলছে ব্যাপক প্রচারণা। প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক আইটি উপদেষ্টা সিজিব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কে বলা হয় তিনি লাখ লাখ টাকা বেতন নিচ্ছেন সরকারী কসিগার থেকে। দুর্নীতির বরপুত্র তারেক জিয়ার কাতারে নামাতে সজিব ওয়াজেদ জয়ের নামে নির্জলা মিথ্যাচারে মেতে উঠেছে তারা, রাজাকারের আওলাদরা। টাকা খরচ করে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মিডিয়া যুদ্ধে বা সাউবার যুদ্ধে নেমেছে।

এমতাবস্থায়, সাধারণ ক্ষমায় বঙ্গবন্ধু যাদের মাফ করেন নি, আর দালাল আইনে যারা গ্রেফতার হয়ে জেলে ছিল, শাস্তি পেয়েছিল সেইসব রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও তাদের আওলাদদের তালিকা তৈরী করা আশু করণীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদের সাথে নানাভাবে যুক্ত হয়েছে কিছু নব্য রাজাকার। তারা সরকারের বিরোধীতার নামে করছে দেশের বিরোধিতা। এখনি এদের চহ্নিত করা জরুরী। এক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া একটা ভাইটাল রোল প্লে করতে পারে। একই সাথে দালাল আইনে সাজাপ্রাপ্তদের আওলাদরা সরকারী চাকরিতে ঘাপ্টি মেরে থেকে নানা সময়ে সরকারের তথা দেশের উন্নয়নের পরিকল্পনা আর তার বাস্তবায়নে করছে বিরোধিতা বা তৈরী করছে নানান জটিলতা। এদের চিহ্নিত করে সরকারি চাকরী থেকে এদের অপসারণ জরুরী। সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া আর সরকারী চাকুরীতে রাজাকারের আওলাদদের নিয়োগ বন্ধ করার ব্যবস্থা নেয়া ফরজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পেজ খুলে সারা দেশের মানুষের কাছ থেকে ইনপুট নিয়ে রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও তাদের আওলাদদের তালিকা তৈরী করা কী খুব কঠিন কাজ হবে? এই ভাবেই দেশ বিরোধীরা দেশে বিদেশে কে কোথায় আছে কী নামে আছে তার একটা চিত্র পাওয়া যেতে পারে। রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও তাদের আওলাদদের যারা বিএনপি- জামাত আমলে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়েছে, তাদেরও মোটা দাগে চিহ্নিত করা যায়। যা যাচাই বাছাই বা তদন্ত করে আসন নকল চিহ্নিত করা যেতে পারে। হাতে বেশি সময় নেই তাই শত্রু চিহ্নিত করতে না করতে পারলে যে কোন সময় বড় বিপদ দেশকে আক্রান্ত করবে না তার গ্যারান্টি কে দেবে!

উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে। আর দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সোমবার মন্ত্রিসভা গঠিত হবে। আইটি জ্ঞান সম্পন্ন সুশিক্ষিত একাধিক নতুন প্রজন্মের তরুণ এমপিকে মন্ত্রি হিসেবে এই মন্ত্রনালয়ে দিলে লাভ ছাড়া ক্ষতি হবে না। তারাই তাবিথ আওয়ালদের ষড়যন্ত্র রুখতে পারবেন। বিশ্বের মিডিয়া মোগলরা বলছেন যে, সোশ্যাল মিডিয়াকে এখন আর অবহেলা করার কোন কারণ নেই। দেশের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে জনমত গঠনে, দেশের মানুষের মাঝে দেশপ্রেম তথা নৈতিকতা জাগ্রত করতে, উন্নয়নবরোধী প্রচারণা রুখে দিতে, দুর্নীতি দমনে, রাজস্ব আদায়ে, কর ফাঁকির তথ্য সংগ্রহে, ইত্যাদি সব কাজে সোশ্যাল মিডিয়ার সুষ্ঠু ব্যবহার বা কাজে লাগানো জরুরী বিবেচনা কয়া যায় কী না ভেবে দেখতে হবে।