শাইখ সিরাজকে ধন্যবাদ দিলেন দুই নেতা ?

রাজনীতি

চ্যানেল আইয়ের পরিচালক শাইখ সিরাজকে ধন্যবাদ জানালেন তারেক জিয়া। আর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বললেন, ‌আপনার ঋণ কোন দিন শোধ করতে পারবো না। নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের দুটি ভিডিও বার্তা সাড়া ফেলেছে। এই ভিডিও বার্তা দুটির মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবারের নির্বাচনকে ৭১`র মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। বলেছেন, আমরা যখন ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম তখন কেউ কেউ আমাদের বলেছিল পাঞ্জাবীদের সঙ্গে আমরা কোনক্রমে পারবো না।

প্রায় হুবহু একটা কথা শাইখ সিরাজ তার ‌হৃদয়ে মাটি ও মানুষ` অনুষ্ঠানের ২০১৭`র ‌‌‌‘কৃষকের ঈদ’ পর্বে বলেছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পুরো পাণ্ডুলিপি তৈরি করে দেন চ্যানেল আইয়ের পরিচালক বার্তা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত শাইখ সিরাজ। মির্জা ফখরুলের এই ভিডিও বার্তায় দুটি বিষয়ে শাইখ সিরাজের অনুষ্ঠানের পাণ্ডুলিপি থেকে নেয়া হয়েছে। হৃদয়ে মাটি ও মানুষে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়াদের কৃষি জ্ঞান হাতে কলমে দেওয়ার জন্য কয়েকটি পর্ব করেছিলেন। এই পর্বগুলোতে শাইখ সিরাজ বলেছিলেন, আমাদের বড়রা অনেক কিছুই বলেছিলেন। বলেছিলেন এসব পারবো না। কিন্তু আমরা কারো কথা শুনিনি। আমরা শুধু আমাদের মনের কথা শুনেছিলাম। শাইখ সিরাজের এ বক্তব্যটি এখানে একটু অদলবদল করে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মির্জা ফখরুল প্রথমে তার ভিডিও বার্তায় সব শব্দচয়ন বাংলায় করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শাইখ সিরাজই এটাকে সাবলীল করার জন্য ইংরেজি শব্দচয়ন রাখেন। জানা গেছে, খসড়া পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত হবার পর দুইদিন এর রিহার্সেল হয়। দুটি রিহার্সালেই শাইখ সিরাজ ছিলেন।

অন্যদিকে ড. কামাল হোসেনের ভিডিও বার্তাটি চূড়ান্ত হওয়ার পর শাইখ সিরাজের পরামর্শেই ড. কামাল হোসেনের হেঁটে আসা যুক্ত করা হয়। শাইখ সিরাজ, তারেক জিয়া এবং হাওয়া ভবন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত। বিএনপি ৯১ সালে ক্ষমতায় এলে তাকে অন্যায্যভাবে ২১ পদক দেওয়া হয়। যদিও যে ক্যাটাগরিতে তাকে ২১ পদক দেওয়া হয়েছিল, তেমন ক্যাটাগরি ২১ পদক তালিকাতে ছিল না। বর্তমান সরকার গত বছর বিতর্কিত এই ব্যক্তিকে স্বাধীনতা পদক প্রদান করে। যদিও প্রথমে তাঁর নাম কমিটি সুপারিশ করলেও পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তা অনুমোদন দেননি। পরে রহস্যময়ভাবে তাকে এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে আলাদাভাবে স্বাধীনতা পদক দেওয়া হয়। পদক পেয়ে শাইখ সিরাজের ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্য সমালোচনার ঝড় তুলেছিল।