মির্জা ফখরুল এখন কী উত্তর দিবেন?

রাজনীতি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তরুণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করেছেন। এই ভিডিও বার্তাটি প্রচারের পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ দেশের মূল ধারার গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা এবং সমালোচনার সৃষ্টি হয়। মির্জা ফখরুলের ভিভিও বার্তা প্রকাশের পর আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করা হয় সামাজিক মাধ্যমে। যে ভিডিওতে মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ্য করে বেশ কিছু প্রশ্ন এবং বিষয় উল্লেখ করা হয়। মির্জা ফখরুলের ভিডিওর বিপরীতে তাঁকে উদ্দেশ্য করে করা হয়। প্রশ্ন গুলো হচ্ছে:

মির্জা ফখরুল তাঁর ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আপনারা যারা এবারেই প্রথম ভোটার দেবেন, তাদেরকে আমি কিছু বলতে চাই। আমার বয়স যখন আপনাদের মত তখন আমরা একটা যুদ্ধে গিয়েছিলাম।’

মির্জা ফখরুলের ভিডিও বার্তাটির সঙ্গে আরেকটি ভিডিও জুড়ে তাঁকে পাল্টা প্রশ্ন করা হয়: মির্জা ফখরুল আপনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিচ্ছেন, কিন্তু আপনি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন জাতি জানতে চায়।

এরপর ভিডিও বার্তায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হবে বাংলাদেশ? মির্জা ফখরুলের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কথায় ভিডিওতে তাঁকে বলা হয়, আপনাদের গণতন্ত্রের নমুনা?

১. সার চাওয়ায় ৮ কৃষককে গুলি করে হত্যা।

২. বিদ্যুৎ চাওয়ায় কানসাঁটে গুলি করে ১৯ জনকে হত্যা।

৩. দশ ট্রাক অস্ত্র।

৪. সারা দেশে জঙ্গি হামলা।

৫. সংখ্যালঘু নির্যাতন

এরপর মির্জা ফখরুল ভিডিওতে বলেন, বহু মানুষ আমাকে বলে, ভোটে তো স্যার আপনারাই জিতবেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ আপনাদের রেজাল্ট খেয়ে ফেলবে।

এই কথার প্রেক্ষিতে মির্জা ফখরুলকে পাল্টা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, মনে আছে ১ কোটি ভুয়া ভোটার নিবন্ধন করেছিলেন?

মির্জা ফখরুলের আপনারাই এ দেশের মালিকের কথার বিপরীতে প্রশ্ন করা হয়, আমরাই যদি দেশের মালিক হই, তাহলে আইএসআই’র সঙ্গে গোপন চুক্তি কেন?

বিএনপি মহাসচিবের যৌবনে আমরা এই দেশটার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম এই কথায় তাঁকে পাল্টা প্রশ্ন করা হয়, তাহলে কেন নিজ স্বাক্ষরে যুদ্ধাপরাধীদের মনোনয়ন দিলেন? কেন ইশতেহারে রাজাকারের বিচার নিয়ে কিছু বলেননি?

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তরুণদের করা এই প্রশ্নের বিষয়ে কি বক্তব্য দেবেন সেই আগ্রহ সকলের। তবে মির্জা ফখরুলের কাছে এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই এমনটাও মনে করছেন অনেকে।

উল্লেখ্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভিডিও বার্তায় ১৯৭১ সালে পাঞ্জাবীদের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন বলে দাবি করেছেন। অথচ তাঁর নিজের জেলার কোন মুক্তিযোদ্ধাই ফখরুলকে মুক্তিযুদ্ধ করতে দেখেন নাই।