রাজধানীর এসএ পরিবহন থেকে এক লাখ ইয়াবা জব্দ,আটক ২

অপরাধ ও দুর্নীতি রাজধানী

এসএ পরিবহনের উত্তরা শাখা হতে এক লাখ ইয়াবা জব্দসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে আটকের পর কুরিয়ার সার্ভিসটির তিন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল এমরানুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তাদেরকে রাতে র‌্যাব-৩ কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। তারা হলেন- এস এ পরিবহনের নির্বাহী পরিচালক মো. আব্দুস সালাম, উত্তরা শাখার ম্যানেজার মো. মোস্তফা ও সহকারী ম্যানেজার মো. খসরুজ্জামান।

র‌্যাব-৩ এর কর্মকর্তা এএসপি রবিউল ইসলাম জানান, দুই মাদকব্যবসায়ী শনিবার (১৮ মে) কক্সবাজার থেকে এসএ পরিবহনের মাধ্যমে ইয়াবার একটি চালান পার্সেল করে বিমানে ঢাকায় আসেন। একদিন পর রোববার সেই চালান রিসিভ করতে গিয়েই র‌্যাব-৩ এর হাতে ধরা পড়েন তারা। পরে জানা যায়, এক লাখ পিসের ওই ইয়াবার চালান আনা হয় ঝিনুকের তৈরি কানের দুল ও মাথার চুলের ক্লিপের অলঙ্কারের কার্টুনে।

এ ঘটনায় এসএ পরিবহনের গাফিলতি স্পষ্ট। ইয়াবা পরিবহনে এসএ পরিবহন কর্তৃপক্ষের কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না সে ব্যাপারে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইয়াবা ব্যবসা, পরিবহন কিংবা চালান আনা নেয়ার ক্ষেত্রে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।উল্লেখ্য, রোববার দুপুরে উত্তরার ৬ নম্বরের সেক্টরের আলাওল অ্যাভিনিউ এলাকার ২০ নম্বর বাড়ির ওই এসএ পরিবহনের অফিসে অভিযান চালিয়ে এক লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ মীর কাশেম (৩১) ও মোরশেদ আলী (৩৩) নামে দুই মাদকব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৩ সদস্যরা।

পরে দুপুর আড়াইটায় ঘটনাস্থলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল এমরানুল হাসান বলেন, মাদক পরিবহনে এসএ পরিবহনের অবশ্যই গাফিলতি আছে। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে ইয়াবা পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে, ধরাও পড়েছে। পরিবহন যখন হয় তখন যে নামেই পরিবহন হোক না কেন স্ক্যানারের মাধ্যমে দেখা উচিত। কেউ বিস্ফোরক পাঠালেই কি তা পরিবহন করবে? মাদক থাকলেও পাঠাবে?

তিনি বলেন, এসএ পরিবহনসহ সব কুরিয়ার সার্ভিসকে সতর্ক থাকা উচিত। আমাদের পোস্টাল ১৮৯৮ যে অ্যাক্ট আছে তা দিয়েই এসব কুরিয়ার চলে। সেখানে স্পষ্ট আছে যে, যেগুলো সরকার কর্তৃক অবৈধ তা পরিবহন করতে পারবে না। কিন্তু এক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় ঘটেছে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তভার র‌্যাব গ্রহণ করবে। এরপর থেকে আমরা এসএ পরিবহনসহ অন্যান্য কুরিয়ার সার্ভিসকেও মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসব।

সূত্রঃজাগো নিউজ।