ক্রিকেট এবং আমাদের বিজয়

খেলাধুলা

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ প্রতিটি ক্ষেত্রেই উন্নতি সাধন করেছে। সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, চিকিৎসা সহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে ক্রীড়াঙ্গনে। আলাদা করে বলতে হলে সিংহভাগই এসেছে ক্রিকেট থেকে। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে লাল সবুজের পতাকা মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। এরপর আর থেমে থাকে নি বাংলার ক্রিকেট। একে একে নিজেদের নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। বিজয়ের ৪৭ বছর শেষে বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন বিশ্বে গৌরবের আসনে আসীন। ক্রিকেটের বিজয় এখন পুরো দেশের বিজয়ে পরিণত হয়।

ক্রিকেট পুরো দেশকে এক সুতোয় নিয়ে আসে, টাইগাররা যখন মাঠে খেলে তখন এদেশের সকল শ্রেণীর, পেশার, ধর্মের, বর্ণের মানুষ এক হয়ে তাদের জন্য গর্জন করে। এটাইতো দেশপ্রেম। আর এদেশের ক্রিকেটের এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ারই হচ্ছে কোটি বাঙ্গালির একনিষ্ঠ সমর্থন, ভালোবাসা ও গর্জন। যেমনটা হয়েছিল ৪৭ বছর আগে একাত্তরে।

তবে বিজয় যেমন সহজে আসে নি ঠিক তেমনি ক্রিকেট বিশ্বে লাল সবুজের পতাকা সহজে উচ্চতায় পৌঁছেনি। শত অপমান, গ্লানি ও পরাজয়ের পর টাইগারদের আজ সমীহ করা হচ্ছে। একটা সময় ক্রিকেট পরাশক্তির দেশগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে সিরিজও খেলতে চাইতো না, খেলার আগে ছিল নানা রকম কটূক্তি, প্রবঞ্চনা। আজ টাইগারদের দাপুটে পারফরম্যান্সের ফলে সেই সব পরাশক্তিরাও এখন সহজেই ধরাশয়ী হয়।

বিশ্বকাপ ক্রিকেটে সর্বপ্রথম লাল সবুজের পতাকা ওড়ে ১৯৯৯ সালে। এত বড় আন্তর্জাতিক আসরে প্রথম খেলতে গিয়েই বীরের বেশে পারফর্ম করেছিল টাইগাররা। নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপেই হারিয়ে দিয়েছিল ক্রিকেট পরাশক্তি পাকিস্তানকে। একই আসরে বাংলাদেশ জয় পেয়েছিল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষেও। এটা যেন ছিল নতুন কোন শুরু। যা পর্যায়ক্রমে ক্রিকেট বিশ্বে লাল সবুজের পতাকাকে মর্যাদাপূর্ণ জায়গায় নিয়ে যায়।

২০০০ সালের ২৬ জুন বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য চিরস্মরণীয় এক দিন। স্বাধীনতার স্বপ্নপূরণের পথে নতুনমাত্রা যোগ করে বাংলাদেশের ক্রিকেট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পূর্ণ সদস্যপদ নিয়ে টেস্ট মর্যাদা পায় বাংলাদেশ। এই বছরেরই ডিসেম্বরে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে টাইগাররা।

দুই দশকেরও বেশি সময়ে ক্রিকেট বিশ্বে বিচরণ করে লাল সবুজের প্রতিনিধিত্ব করছে টাইগাররা। এ সময়ে এই পতাকাকে বহুবার উচ্চতার শিখরেও পৌঁছে দিয়েছে ক্রিকেট। ২০১৫ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ, ২০১৭ সালে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের ৩ বারের ফাইনালিস্ট লাল সবুজের প্রতিনিধিত্বকারীরা।

ছেলেদের পাশাপাশি বাংলাদেশের মেয়েরাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রিকেটে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। এ বছর এশিয়া কাপের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রতিনিয়ত হারাচ্ছে ক্রিকেট পরাশক্তিগুলোকে। ক্রিকেটের সাফল্যকে যেন মেয়েরা তুলির আঁচড়ে আল্পনা এঁকে দিয়ে যাচ্ছে।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে বিশ্বের সব বড় বড় ক্রিকেট পরাশক্তির বিপক্ষেই। টেস্ট ক্রিকেটেও গত বেশকিছু বছর ধরে উন্নতি করে আসছে টাইগাররা। স্বাধীনতার পর যেমন দেশ ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে ঠিক তেমননি ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এদেশের ক্রিকেটও। আর এভাবেই একদিন বিশ্ব জয় করবে লাল সবুজের এই দেশ।