তারেক জিয়ার নতুন নির্বাচনী কৌশল

রাজনীতি

-সায়েদুল আরেফিন
নতুন নতুন কৌশলে এগুচ্ছে বিএনপি’র লন্ডন অফিসের কর্ণধার। একটা ফেল করলেই আরেকটি কৌশল নিয়ে এগুচ্ছেন। সব যেন আগে থেকেই হোমওয়ার্ক করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তাই নিজ দলের মনোনয়নবঞ্চিত বেপরোয়া হয়ে ওঠা নেতাদের সামাল দেওয়া, আগামী ৫ বছরের জন্য নিজের পরিবারের ও দলের খরচ জোগাড়, টাকা দিয়ে বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকার কর্মী, পত্রিকা, টেলিভিশনের মালিকদের কিনে নিজের পক্ষে কথা বলার নিত্য নতুন কৌশল নিয়ে আগুয়ান হচ্ছে বিএনপি। যাতে তাদের তারেক জিয়া সাহেবের সব কূল রক্ষা হয়। এতে বেপরোয়া মনোনয়ন বানিজ্যের কারণে নষ্ট হওয়া দলের ভাবমূর্তি ফিরবে। কিন্তু সমস্যা হলো মনোনয়নবঞ্চিত দলের ত্যাগী কর্মীদের চরম হতাশ হয়ে যাওয়া নিয়ে কথা বলায় ‘হট টক’ হয়ে গেছে বিএনপির পলাতক নেতা তারেক জিয়ার সঙ্গে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের।

পত্রিকার খবরে জানা যায় যে, ‘সোমবার বিকেলে লন্ডন থেকে তারেক জিয়া স্থায়ী কমিটির নতুন তিনজনকে মনোনয়নের লিখিত মেইল পাঠান। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘদিন শূন্যপদ পূরণ করা হয়নি। স্থায়ী কমিটির সদস্য বিগ্রেডিয়ার হান্নান শাহ, এম কে আনোয়ার, তরিকুল ইসলাম মারা গেলেও এই পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক এই কমিটি এখন কোরাম সংকটে। জানা গেছে, তারেক জিয়া তাঁর স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান, কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথি এবং আবদুল আউয়াল মিন্টুকে স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেন। কিন্তু বিএনপির মহাসচিব মনে করছেন, দল এখন কঠিন এক সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এখন সবচেয়ে জরুরি। মনোনয়নবঞ্চিত, নির্যাতিত অনেকেই ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ এই কমিটির সদস্য হয়ে সান্ত্বনা খুঁজতে চান। তাই নির্বাচনের আগে এরকম মনোনয়ন দলের স্বার্থের অনুকূলে হবে না’।

লন্ডনের বিএনপির এক নেতা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন যে, তারেক জিয়ার সঙ্গে টক্কর দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠিক কাজ করেননি। এর ফল তাই তাঁকে হাতে হাতেই দেওয়া হয়েছে। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে গত মঙ্গলবার। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বানারহাট এলাকায় মঙ্গলবার এ হামলার ঘটনা ঘটে। ফখরুলের গাড়ি ছাড়াও আরও বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। কারা করেছে কিছু জানে না প্রশাসন। এখন তারেক জিয়ার পরিকল্পনা মতো তাঁর মিডিয়া, বুদ্ধিজীবী দলের নেতারা মিলে সব দোষ সরকারের ঘাড়ে চাপাতে চাচ্ছেন। এটা করতে পারলেই যেমন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা যাবে ঠিক তেমনি নিজ দলে বিদ্রোহ দমন, আর ভোটে জিতে রাজার বেশে দেশে আসার রাস্তা পরিষ্কার হবে। এ যেন ‘এক ঢিলে তিন পাখি মারা’।

পত্রিকার খবরে জানা যায় যে, গত শনিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান ও নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ব্যাপক বিক্ষোভ, ভাংচুর ও তালা লাগিয়ে দিয়েছেন মনোনয়নবঞ্চিতরা। মনোনয়নবঞ্চিতদের অনুসারীরা এ বিক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটায়। প্রার্থী পরিবর্তনের জন্য তারা সময়সীমাও বেঁধে দেয়। এছাড়াও লক্ষীপুরের রামগঞ্জে, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জসহ সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় মনোনয়নবঞ্চিতরা দলের বিভিন্ন স্তরের কার্যালয়ে ভাংচুর চালানোর খবর পত্রিকায় এসেছে। মনোনয়ন প্রশ্নে তারেক জিয়াকে অমান্য করার অনেক বক্তব্য (যেমন ছাতক উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়কের বক্তব্য) এখন ইউটিউবের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে। কোন কোন এলাকায় মনোনয়নবঞ্চিতরা নিজ দলের প্রার্থীদের মাঠে নামতে দিচ্ছেন না। কারণ দলের মাঠ প্রকৃত ত্যাগী নেতারা মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন দলের শীর্ষ নেতাদের বেপরোয়া মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে। ফলে ১০ বছর ধরে লড়াই সংগ্রাম করা নেতাদের অনেকেই চরম ক্ষুব্ধ হয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

সারা দেশে বিভিন্ন এলাকায় দলীয় কার্যালয় ভাংচুরের দায় সরকারের উপর চাপানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেই জানা গেছে। একই সঙ্গে বিদ্রোহ দমনে মনোনয়ন প্রাপ্তদের টাকা খরচ করা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই খবর শুনে আমার একটা গল্প মনে পড়ে গেল, যা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করা যায়:

একটা গল্প পড়েছিলাম কোন এক অনলাইন পোর্টালে। গল্পটা এমন- রাতে ঘুম ভাঙলেই এক স্বামী দেখেন যে, স্ত্রী পাশে নেই। আশপাশে খুঁজেও পাওয়া যায় না। পরে তদন্ত করে স্বামী দেখলেন যে, সে ঘুমিয়ে পড়ার পরে প্রতিদিনই স্ত্রী বেরিয়ে যায় এবং শেষ রাতে ফিরে আসে। ক্ষুব্ধ স্বামী হাতে নাতে ধরার মানসে এক রাতে স্ত্রী বের হয়ে যাওয়ার পরে দরজা বন্ধ করে দিলো। ভোরে স্ত্রী ফিরে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে ভয়ে মুর্ছা যাওয়ার মত অবস্থা। স্বামীকে ডেকে অনুনয়-বিনয় করে দরজা খোলার অনুরোধ করতে লাগলো। কান্নাকাটি করে মাফ চাইলো। কাজ হলো না তাতে, স্বামী রাগে গজ গজ করতে লাগলো। স্বামী দাঁত কিড়মিড় করে বলল-বার ভাতারি নষ্টা, পাড়া-পড়শীকে তোর এই কূকীর্তি না দেখিয়ে আমি দরজা খুলব না। নিরুপায় স্ত্রী নতুন ফন্দী আঁটলো। সে বলল-‘এ মুখ আর আমি কাউকেই দেখাবো না। ইঁদারায় ঝাঁপ দিয়ে মরতে গেলাম’। কিছুক্ষণ পরেই ইঁদারার মধ্যে ঝাপ দেয়ার মত শব্দ শোনা গেল। স্বামী দেখল, এবারতো কেসকামারি হয়ে বাড়িছাড়া অবস্থা হবে। তখন মাঘ মাস, তড়িঘড়ি মই নিয়ে ইঁদারায় নেমে তীব্র শীত উপেক্ষা করে ডুব দিল। হাতে বাঁধল মরিচ পেষার শীল বা পাটা। ক্ষোভে বিষ্ফোরিত হয়ে ভেজা কাপড়ে শীতে কাঁপতে কাঁপতে গোয়াল থেকে হালের লাঠি নিয়ে ঘরের দিকে ছুটল স্বামী ঝাল মেটানোর জন্যে। ঘরে এসে দেখে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। রোষে ফেটে পড়ে হুংকার দিল-‘বজ্জাত মাগি দরজা খোল। তোর আর কুয়ায় ডুবে মরতে হবে না। লাঠি দিয়েই তোকে শেষ করব’। ঘরের মধ্যে স্ত্রী একেবারে চুপ, টু-শব্দ পর্যন্ত করছে না। ওদিকে ঘন কুয়াশার সাথে শীতল বাতাস বইছে। তীব্র শীত আর ভেজা কাপড়ে স্বামীর বেহাল অবস্থা। রাগে গর্জন করতে করতে দরজায় লাথি মারতে শুরু করল। কে শোনে কার কথা।

তখন ভোর হয়ে গেছে। চিৎকার আর দরজায় প্রচন্ড আঘাতের শব্দে পাড়া-প্রতিবেশী অনেকেই এসে হাজির। লাঠি হাতে ভেজা কাপড়ে পাগলের মত চিৎকার আর দরজায় আঘাত করতে দেখে সবাই জিজ্ঞেস করল- কি হয়েছে? এই শীতে ভেজা কাপড়ে চিৎকার করছিস কেন? স্বামীর তখন কথা বলার শক্তি নেই। একটু দম নেয়ার চেষ্টা করল। সবাই চুপ। সুযোগ বঝে স্ত্রী ঘরের ভেতর থেকে চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠল- ‘আমি কি মেয়ে মানুষ না? ঘরের মরদের এসব আদিখ্যেতা আর কত সহ্য করব? প্রতিটা রাত বাইরে কাটিয়ে ভোর রাতে গোসল করে এসে গামছা দাও, লুঙ্গি দাও, আর করবো না, আজকে মাফ কর; এসব ঢং আমার আর ভালো লাগে না’। এরপর শুরু হল বেচারা স্বামীর গণধোলাই।

আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের অবস্থা ঐ স্বামীর মতই করার লক্ষ্যেই পরিকল্পনা করে এগুচ্ছে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। তাই সাধু সাবধান!

-বাংলা ইনসাইডার