প্রধানমন্ত্রী কথা রাখেননি : মওদুদ

আগামী নির্বাচনে জনজোয়ারে আওয়ামী লীগের নৌকা ভেসে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। শুক্রবার বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মওদুদ আহমদ বলেন, আমরা সন্ত্রাস ও সংঘাত এড়ানোর জন্য সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছিলাম। গত দশ বছর ধরে দেশে গণতন্ত্রের সংকট, বিচার বিভাগের সংকট ও আইনের শাসনের সংকট চলছে। মৌলিক অধিকার হারিয়েছে দেশের জনগণ। আমরা এগুলো ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। এনিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দুই দফা সংলাপে বসেছিলাম। আমরা সাত দফা দাবি উত্থাপন করেছিলাম। কিস্তু সেই সংলাপ সফল হয়নি। কারণ স্বৈরাচারী সরকার ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। এবার ৫ জানুয়ারিরমত নির্বাচন হতে দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এই বিএনপি নেতা বলেন, আমাদের মৌলিক দাবি, সংসদ ভেঙে দিতে হবে। বেগম জিয়াকে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যে কথা দিয়েছিলেন সেই কথাও রাখেননি। সংলাপের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার কথার বরখেলাপ করেছেন। এক দিনেই দুই হাজার ২০০ নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা ছাড়াই নির্জন কারাগারে পাঠিয়েছেন। সভা-সমাবেশ করতে দেননি। তারা কথা দিয়ে কথা রাখে না, এটা আমাদের মনে রাখতে হবে।

মওদুদ অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতি। তারা চোখেও দেখে না, কানেও শোনে না। আমরা এতোদিন জানতাম, তফসিল ঘোষণার পর সকল রাজনৈতিক দল সমান অধিকার নিয়ে কাজ করবে। লেবেল প্লেইং ফিল্ড থাকবে। কিন্তু সরকারের তল্পিবাহক নির্বাচন কমিশন সেটি করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

যত দিন দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন নির্বাচন কমিশনার স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন না বলেও মন্তব্য করেন ব্যরিস্টার মওদুদ।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে জনসভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত-উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরীর এ্যানি, নির্বাহী সদস্য দেবাশীষ রায় মধু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।