সিরাজগঞ্জ-২ চিকিৎসক মিল্লাতে আবার স্বপ্ন আ.লীগের

সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনটিতে বিএনপি একাধিকবার জিতলেও চিকিৎসক হাবিবে মিল্লাত মুন্না নৌকা প্রতীক পেয়ে পাল্টে দিয়েছেন পরিস্থিতি। আর বর্তমান সংসদ সদস্যকে নিয়েই স্বপ্নের জাল বুনছে ক্ষমতাসীন দল।

আসনটিতে বিশিষ্ট কার্ডিয়াক সার্জন হাবিবে মিল্লাতের মনোনয়ন নিয়ে কখনো সংশয় ছিল না। আর তিনি নির্বাচনী প্রচারে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়, উঠান বৈঠকসহ নানা কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

২০১০ সালে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন এবং এ অঞ্চলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক হন হাবিবে মিল্লাত। এর মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পরিচিত হন এলজিআরডিমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের জামাতা।

আলোচিত ওয়ান-ইলেভেনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের প্রয়োজনে এ সময়ে তার সহায়ক ভূমিকা ছিল এই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের। সিরাজগঞ্জের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রেখে স্বল্পসময়ে পরিশ্রম ও স্বচ্ছ রাজনীতি চর্চার মধ্য দিয়ে সিরাজগঞ্জের রাজনীতিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে নিজের অবস্থান করে নেন তিনি।

রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ২০১৪ সালের নির্বাচনে নৌকার টিকিট পান প্রখ্যাত চিকিৎসক, নির্বাচিত হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এরপর থেকে সরকারের নানা উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগে জেলা সদরের উন্নয়নে নানা ভূমিকা রেখে চলেছেন তিনি।

হাবিবে মিল্লাত চান, বিএনপি ভোটে আসুক। তাদের প্রার্থীকে হারিয়েই সংসদে বসার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন।  তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, সব দলের অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন। গত নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় খেসারত দিতে হয়েছে। দ্বিতীয় বার নির্বাচনে না এলে টিকতে পারবে না, এটা তারা বুঝতে পেরেছে। আমরাও চাই, তারা নির্বাচনে আসুক।’

সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘হাবিবে মিল্লাত মুন্না একজন উদার পরিচ্ছন্নমনা রাজনীতিবিদ। তিনি এমপি হওয়ার পর থেকেই সিরাজগঞ্জ-২ সদর ও কামারখন্দ আসনে ব্যাপক উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। তার নেতৃত্বে বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ এখন অনেক শক্তিশালী ও গতিশীল হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তারই ধারাবাহিকতা আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে আবার দল মনোনয়ন দেবে এবং এই আসনটিতে আবার নৌকার বিজয় হবে বলে আমি আশাবাদী।’

যুবলীগ নেতা একরামুল হক বলেন, ‘সিরাজগঞ্জের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রেখে নেতাকর্মীদের ও সাধারণ মানুষের মাঝে নিজের অবস্থানকে শক্ত করে নিয়েছেন আমাদের প্রিয় নেতা হাবিবে মিল্লাত মুন্না। তিনি এমপি হাওয়ার পর থেকে সিরাজগঞ্জের সব রাস্তাাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দিরসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সিরাজগঞ্জ সদর-২ আসনে তার বিকল্প নেই।

স্বচ্ছ মানুষ হিসেবে হাবিবে মিল্লাত মুন্নার সুনাম রয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়ার মৃত্যুর পর দলের জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন তিনি। এ আসনের রাজনৈতিক সব কর্মকাণ্ডে তিনি সক্রিয় থাকায় দলীয় নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত।

এবারের নির্বাচনে জনগণের কাছে কোন বার্তা নিয়ে হাজির হবেন- জানতে চাইলে এই চিকিৎসক বলেন, ‘সবাই জানে বর্তমান সরকার প্রতিটি জেলার কী পরিমাণ উন্নয়ন সাধন করেছে। আমরা বলতে চাই, উন্নয়নকে বেগবান রাখতে ও দেশে বিএনপির নৈরাজ্য বন্ধ ও শান্ত ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ভোট দিয়ে আবার জয়যুক্ত করতে হবে। এটাই হবে আমাদের ভোটারদের কাছে আহ্বান।’

বর্তমান সাংসদ এরই মধ্যে দলকে শক্তিশালী করতে তৃণমুলের সব কমিটি গঠন করে নেতাকর্মীদের প্রাণের সঞ্চার করেছেন। সদর আসনের পাশাপাশি গোটা জেলাতেই সাংগঠনিক দক্ষতা বাড়িয়েছেন।

হাবিবে মিল্লাত বলেন, ‘শুধু সিরাজগঞ্জে নয়, সারা বাংলাদেশে আমাদের সাংগঠনিক অবস্থা অনেক ভালো। শুধু সাংগঠনিক অবস্থা নয়, নির্বাচনী প্রস্তুতির কাজও প্রায় শেষের দিকে। নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মকা- আমাদের চলমান আছে।’

নিজের পাশাপাশি জেলার সব কয়টি আসনেই জয়ের প্রত্যাশ্যায় সদর আসনের সংসদ সদস্য। কোনো আসনকেই তিনি ঝুঁকিপূর্ণ দেখছেন না। বলেন, ‘তবে ঝুঁকি বলতে বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও, সন্ত্রাস।’

তবে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক জানিয়ে হাবিবে মিল্লাত বলেন, এই অবস্থা থাকলে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

‘আমি বিশ্বাস করি, আমার এই জেলার কোনো আসনে বিএনপির মতো ভঙ্গুর দল কোনো সন্ত্রাসী কর্মকা- করতে পারবে না। আওয়ামী লীগ সিরাজগঞ্জ জেলায় সাংগঠনিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী।’

আসনটিতে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কোনো প্রকাশ্য প্রস্তুতি নেই। তবে বিএনপি ভোটে আসার ঘোষণা দিলে অন্য প্রার্থীরা সক্রিয় হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।