ভিডিও>>বোলারের ‘অভিনব’ ডেলিভারি, আম্পায়ারের ‘অভিনব’ সিদ্ধান্ত!

আক্ষরিক অর্থেই বোলিং মায়াজাল। পুরা ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে বল করে ভাইরাল ভারতীয় স্পিনার। সেই বোলিং খেলা কঠিন বললেও কম বলা হয়। আম্পায়ার অবশ্য নজিরবিহীন বোলিং অ্যাকশন দেখে ‘ডেড বল’ বলে ঘোষণা করেছেন। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক তাড়া করছে৷

ঘটনা সিকে নাইডু টুর্নামেন্টে। অনূর্ধ্ব ২৩ ঘরোয়া এই টুর্নামেন্টে বাংলা দলের বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশের ম্যাচে অভিনব ৩৬০ ডিগ্রি বোলিং করেছেন শিবা সিং। বাংলার ব্যাটিং ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বাঁ-হাতি এই বোলারের এমন অভিনব ডেলিভারি শুধু ব্যাটসম্যানকেই নয়, অন ফিল্ড আম্পায়ারকেও ধন্দে ফেলে দেয়।

রাউন্ড দ্য উইকেট বোলিং করার সময় পপিং ক্রিজের সামনে এসে ৩৬০ডিগ্রি ঘুরে তারপর বল করেন শিবা৷ সোজা কথায় একটি নির্দিষ্ট দন্ডের চারপাশে একপাক খাওয়ার কায়দায় ঘুরে নিয়ে তারপর বল রিলিজ করে শিবা৷ সত্যিই আশ্চর্য এই বোলিং অ্যাকশন৷ কঠিন হলেও অদ্ভূত অ্যাকশনের এই বোলিং মোকাবিলা ক্রিজে থাকা বাংলার ব্যাটসম্যান৷ যদিও আম্পায়ার সেটিকে ডেড বল বলে জানান৷

আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে উত্তরপ্রদেশের ক্রিকেটাররা একেবারেই অসন্তুষ্ট৷ কোন কারণ ছাড়ার আম্পায়ার কেন বৈধ বলটিকে ডেড ঘোষণা করেছেন বুঝে উঠতে না পেরে ফিল্ডাররা নিজেদের মনের প্রশ্ন দূর করতে আম্পায়ের দিকে এগিয়ে আসেন৷ ভাইরাল ভিডিওতে ধরা পড়েছে সেই দৃশ্য৷

এবার দেখে নেওয়া যাক ক্রিকেটের বাইবেল কী বলছে৷ এই বোলিং নিয়ে এমসিসি’র মন্তব্য চাওয়া হলে, Lords, The home of Cricket এর এক ব্লগে শিবার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে৷

ক্রিকেটের আইনে বোলিং অ্যাকশন কেমন হবে, সেই নিয়ে কোন ইঙ্গিত দেওয়া নেই৷ ফলে বোলার তার পছন্দ মতো বোলিং অ্যাকশন বেছে নিতেই পারেন৷ তা সে যত জটিল অ্যাকশনই হোক না কেন৷

এবার প্রশ্ন, সেই বোলিং অ্যাকশন কি ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করছে৷ আইনের ৪১.৪.১ ধারা বলছে বোলার বল করার সময় কোন ফিল্ডার যদি স্থান পরিবর্তন করে বা করার চেষ্টা করে, সেক্ষেত্রে সেই অ্যাকশন ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করার মধ্যে পড়বে এবং ডেড বল বলে গণ্য হবে৷ বোলিং এন্ডে দাঁড়িয়ে থাকা বোলারের (ফিল্ডিংয়ে অংশ)ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য৷ আর এই সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা পান ফিল্ড আম্পায়াররা৷ তাদের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত ধরে নেওয়া হয়৷

নিয়মে আরও বলা রয়েছে, ব্যাটসম্যান বোলারের পয়েন্ট অফ রিলিজ না বুঝতে পারলে, সেক্ষেত্রে ব্যাটসম্যান যদি আম্পায়ারকে অভিযোগ করে সেক্ষেত্রে ফিল্ডিং করা দল পেনাল্টির মুখে পড়বে৷ কঠিন বোলিং অ্যাকশন হলেও যদি ব্যাটসম্যানের খেলতে কোন সমস্যা না হয়, সেক্ষেত্রে খেলা চালু থাকবে৷ এক্ষেত্রেও মাঠের আম্পায়ারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন৷

কিংবা আম্পায়ার যদি বোঝেন বোলার ক্রমাগত ব্যাটসম্যানের অসুবিধে তৈরির জন্য ঐচ্ছিকভাবে তার অ্যাকশনে পরিবর্তন আনছেন৷ সেক্ষেত্রে সেটি বল হিসেবে গণ্য করা হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেবেন আম্পায়ার৷

শিবার ঘটনার ক্ষেত্রে কিছুটা এরকমই ঘটেছে৷ সেখানে মাঠের আম্পায়ার মনে করেছেন ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে বোলিং করায় ব্যাটসম্যানকে আদতে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে৷ সেকারণে এই আম্পায়ার বলটিকে ডেড বলে গণ্য করেন৷ যা সম্পূর্ণ সেই আম্পায়ারের নিজস্ব সিদ্ধান্ত৷